আমার কথা না শুনে তদন্তে স্থগিতাদেশ কেন? ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ কুন্তল ঘোষ

তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের মামলায় সিবিআই আধিকারিকদের রক্ষাকবচ দিয়েছে হাইকোর্ট। এমনকী নিম্ন আদালত ওই আবেদনের ভিত্তিতে যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল তাও খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি। হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবার ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হলেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার অধুনা বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ। তাঁর দাবি, তাঁর বক্তব্য না শুনেই রায় দিয়েছে আদালত।

গত মে মাসে কুন্তল ঘোষ অভিযোগ করেন, তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বলার জন্য চাপ দিচ্ছে সিবিআই ও ইডি। ঘটনাচক্রে তার আগের দিন কলকাতার শহিদ মিনার ময়দানে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক সভায় মদন মিত্রকে নিয়ে একই রকম দাবি করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের অভিযোগ জানিয়ে আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক অর্পণ চট্টোপাধ্যায়কে চিঠি দেন কুন্তল। অভিযোগ, এজলাসে নয়, কথা বলতে কুন্তলকে নিজের চেম্বারে নিয়ে যান বিচারক চট্টোপাধ্যায়। যে ঘরে কোনও সিসি ক্যামেরা নেই। এর পর এই ঘটনার কথা জানিয়ে প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারের মাধ্যমে হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কুন্তল। এর পর বিষয়টি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে উত্থাপন করে ইডি।

সওয়াল করে তারা বলে, কুন্তল যখন তাঁর ওপর নির্যাতন হয়েছে বলছে তখন তাকে নিয়মিত আদালতে পেশ করা হত। তখন আদালতকে কেন একথা জানাননি তিনি। এই অভিযোগ উদ্দেশপ্রণোদিত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পরই কেন কুন্তল অভিযোগ করলেন সেই প্রশ্নও আদালতে তোলে ইডি। এর পর ইডি ও সিবিআইকেই এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

ওদিকে কুন্তলের অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে সিবিআই ও কলকাতা পুলিশকে নিয়ে সিট গঠন করেন বিচারক অর্পণ চট্টোপাধ্যায়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সেই তদন্ত কমিটি খারিজ করে দেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। বুধবার কুন্তলের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের মামলায় সিবিআই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সঙ্গে নতুন করে কোনও FIR করা যাবে না বলেও জানান তিনি। এর পরই বিচারপতি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন কুন্তল।

কুন্তলের দাবি, তাঁর বক্তব্য না শুনেই এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত। যা স্বাভাবিক ন্যায়ের ভাবনার পরিপন্থী। একই সঙ্গে কলকাতা পুলিশকে নিয়ে যে তদন্তকমিটি গঠন হয়েছিল তা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বলে রাখি, ওই তদন্তকমিটি গঠন করায় বুধবারই বিচারক অর্পণ চট্টোপাধ্যায়কে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।