‘দিদি আমার দেখা শ্রেষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী’, মমতার ঢালাও প্রশংসায় ‘ভাই’ দেব

দীপক অধিকারী। ওরফে দেব। অনেক তরুণীর রাতের ঘুম কেড়ে নেয় তাঁর অভিনয়। বাংলার জনপ্রিয় নায়ক। আর সেই দেব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে একেবারে তাঁর দেখা ‘শ্রেষ্ঠ মুখ্য়মন্ত্রী’র আসনে বসিয়ে দিলেন।

সন্দেশখালি ফুঁসছে বাংলার মুখ্য়মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। সন্দেশখালির মহিলারা সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। বাংলার মুখ্য়মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব তাঁরা। রাজপথে চাকরিপ্রার্থীরা চিৎকার করছেন, বুক চাপড়াচ্ছেন, কাঁদছেন। তাঁরা বলছেন, বাংলার মুখ্য়মন্ত্রী চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তিনবার দেওয়ার পরেও তা রক্ষা করেননি।

এদিকে মমতার মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য বর্তমানে জেল খাটছেন দুর্নীতির অভিযোগ। দুর্নীতির একেবারে ভুরি ভুরি অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধে। তবে তাতে কী! আরামবাগের সরকারি পরিষেবা প্রদানের অনুষ্ঠান থেকে দেব বলেন, আমার দেখা শ্রেষ্ঠ মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।

দিন কয়েক আগেও দেবের রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। এরপর দেবের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন বাংলার মুখ্য়মন্ত্রী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ও তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তারপর সব অভিমান গলে জল। ঘাটাল থেকে যে দেব প্রার্থী হচ্ছেন সেটাও আর কারোর অজানা নয়।তবে সোমবার আরামবাগ থেকে যে কথা বললেন তা যেন অতীতের সব প্রশস্তিকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

এদিন তৃণমূল এমপি দেব বলেন, আমি রাজনীতিতে এসেছিলাম দিদির হাত ধরে। আমি রাজনীতিতে থেকে গেলাম দিদির হাত ধরে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে আমি জিতব কি জিতব না জানি না। কিন্তু মুখ্য়মন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানটা যেন রাজ্য সরকারের হাত ধরেই হয়।

আর মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘দিদির কাছে ভাই আবদার করলে তো দিদি ফেরাতে পারে না। আমি ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছি ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে। দিল্লির ভরসায় থাকব না। আমরা আমাদেরটা করে নেব।’‌

তবে দেব রাজ্যের মুখ্য়মন্ত্রীকে তাঁর দেখা শ্রেষ্ঠ মুখ্য়মন্ত্রী বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে এর আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমার কাছে রাজনীতি এবং কর্তব্য আলাদা। ১০ বছরের রাজনীতির মধ্যে দল কোনওদিন আসেনি। কখন যদি আসে, দল কেন গোটা বাংলা জানে দেবের হিম্মত আছে রইল ঝোলা চলল ভোলা বলার।’ তিনি একই সঙ্গে জানান যতই তিনি তৃণমূল করুন না কেন তাঁর সঙ্গে বিরোধী দলের (বিজেপির) রুদ্রনীল ঘোষ, মিঠুন চক্রবর্তী, প্রমুখের সঙ্গে দারুণ ভালো সম্পর্ক।